শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

নোটিশ
সাইটের সংস্কার কাজ চলছে, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পাশে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
শিরোনাম
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান সামছুল ইসলাম টিটু হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মোগলাবাজার থানা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী হতে চান সমাজসেবী চিনু আক্তার মে দিবস উপলক্ষে সিলেট জেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রস্তুতি সভা সিলেটে ক্যারিয়ার হাব পাওয়ার্ড বাই ব্র্যাক-এর উদ্যোগে এমপ্লয়ার্স মিট-আপ সেশন অনুষ্ঠিত হলি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি সিলেটের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত এনসিপি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আহবায়ক কমিটির বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো কবি ও বাচিকশিল্পী সালেহ আহমদ খসরুর একক কবিতাসন্ধ্যা প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ে বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আজহারুল ইসলাম মুমিন
‘বিশ্বের সবচেয়ে বড়’ কাঠবিড়ালি চুনারুঘাটের বনে

‘বিশ্বের সবচেয়ে বড়’ কাঠবিড়ালি চুনারুঘাটের বনে

নিউজ মিরর ডেস্ক
বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঠবিড়ালি মালয়ান এর দেখা পাওয়া গেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা-কালেঙ্গায়। সম্প্রতি ফটোগ্রাফার শাহেদ আহমেদ কালেঙ্গা বন থেকে এই কাঠবিড়ালির ছবি তুলেন।

এদের ইংরেজিতে নাম Black giant squirrel বা Malayan giant squirrel.বৈজ্ঞানিক নাম Ratufa bicolor. মালয়ান কাঠবিড়ালির দেহের দৈর্ঘ্য মাথাসহ প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার। আর লেজ ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

প্রচলিত আছে বাংলাদেশের শুধুুু একমাত্র চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের বিরল এই প্রাণীর দেখা মিলে। তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে অন্য বনেও আছে তবে তা সংখ্যায় এত কম যে খুব সহজে দেখা যায় না।

বাংলাদেশে মোট ৮ প্রজাতির কাঠবিড়াািল আছে তার মধ্যে সব থেকে বড় মালয়ান কাঠবিড়ালি।মালয়ান কাঠবিড়ালিকে বলা হয় বিশ্বের সবচে বড় কাঠবিড়ালি। মালয়ান বড় কাঠবিড়ালি দেখতে সাধারণ কাঠবিড়ালির মত নয়। আকৃতিতে অন্যান্য কাঠবিড়ালির তুলনায় এরা বেশ বড়। বিশাল লম্বা লেজ আর বড় বড় কান দেখলে মনে হতে পারে বানর জাতীয় কিছু। সংকটাপন্ন প্রজাতি এই কাঠবিড়ালির দেখা মিলে রেমা-কালেঙ্গা বনে। আইইউসিএন এই কাঠবিড়ালিকে সংকটাপন্ন প্রজাতি হিসেবে সনাক্ত করেছে। ক্রমাগতভাবে বন ধ্বংস, বনের প্রাকৃতিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা বিনষ্ট করা, বনের পুরনো এবং দীর্ঘদেহী বৃক্ষগুলো উজাড়, বনে নতুন করে বসতি স্থাপন, দীর্ঘদিন ধরে বনে বাস করা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষরা বন্যপ্রাণীদের গোপনে শিকার বা হত্যা করার কারণে মালয়ান কাঠবিড়ালির অস্তিত্ব এখন সংকটের মুখে।

বনের পরিবেশ রক্ষা না করতে পারলে এরা অচিরেই হারিয়ে যাবে। একটি পূর্ণবয়স্ক কাঠবিড়ালি সব মিলিয়ে দেড় মিটারের মত লম্বা এবং প্রায় দুই কেজি ওজন হতে পারে।

এদের মাথা, কান, লেজসহ পৃষ্ঠদেশ কালো বা মেরুন বর্ণের এবং পেটের দিকটা সাদা হয়। গাছের মগডালে ডালপালা ও পাতা দিয়ে বাসা তৈরি করে থাকে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রজনন মৌসুম। বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন, নেপাল, ভারত, মায়ানমার, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালেয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া এই দেশগুলোর গহিন বনে মালয়ান কাঠবিড়ালির দেখা মেলে। মূলত তৃণভোজী এই কাঠবিড়ালির খাদ্য তালিকায় রয়েছে বুনো ফল, বীজ ও কচি পাতা। কালেঙ্গা রেঞ্জ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, রেমা বনটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন। এ বনের নানা প্রজাতির কাঠবিড়ালির মধ্যে বিরল এবং সবচেয়ে বড় কাঠবিড়ালিটি রেমা কালেঙ্গা বনে রয়েছে। এটি আমাদের জন্য ভাল খবর। এটি অন্য কোন বনে দেখা যায়না।

বৃন্দাবন সরকারি কলেজের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দেব বলেন, দেশের ৮ প্রজাতির কাঠবিড়ালির মধ্যে মালয়ান সবচেয়ে বড় কাঠবিড়ালিটি রেমা-কালেঙ্গায় রয়েছে। এতবড় কাঠবিড়ালি এখন সারা বিশ্বেই বিরল। অন্য বনে এদের অবস্থান থাকলেও সাধারনত দেখা যায়না। তবে দেশে একমাত্র রেমা কালেঙ্গা বনে এদের সহজে দেখা মিলে এবং এই বনে এদের অবস্থা ভাল।

তিনি আরো জানান, এই প্রাণীটি প্রাকৃতিক বনেই থাকে, তাই এখনই বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী না হলে মালয়ান কাঠবিড়ালি হারিয়ে যাবে আমাদের দেশ থেকে।

শেয়ার দিয়ে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন, ধন্যবাদ।




© All rights reserved © 2012 Newsmirror24.news
ThemesBazar-Jowfhowo