
জগন্নাথপুর সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চাঁদা না পেয়ে যুবদল নেতার নেতৃত্বে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ঘরের আসবাবপত্রওে বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রবিবার দুপুর ২ টার পর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে বলে দাবী করেছে পরিবারটি।
অভিযুক্তরা হলেন, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সিহাব মিয়া ও মজনু মিয়ার নেতৃত্বাধীন লোকজন। এদিকে অভিযুক্ত ওই যুবদল নেতা নিজাম উদ্দিনকে ভিডিওতে দেখা গেলেও তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খান দেশ স্বাধীনের পর থেকে ইসলামপুর গ্রামের সরকারি জায়গায় পরিবারবর্গ নিয়ে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে সরকারের পক্ষ থেকে ওই জায়গায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খানের নামে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। যা ২০১১ সালে নামজারি হয় বরে জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খানের বড় ছেলে।
এদিকে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ওই জায়গা জোরপূর্বক দখলের পায়তারা শুরু করেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুল্লাহ খানের বড় ছেলে আব্দুল গফফার খান। তিনি বলেন,‘গত মাসের ২২ তারিখে আমার পৈত্রিক ভিটায় ঘর উন্নয়নের কাজ শুরু করি। এসময় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন নিজাম উদ্দিন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সেই সূত্র ধরে আজ নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে তার দল আমাদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ঘরটি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। ভাঙচুরের পর আসবাবপত্রসহ সব মালা্মাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে আমাদের প্রায় ২০ লাখ টাকা ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে।’
তবে বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন,এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি ঘটনাস্থলে যায়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার এসআই হাদী আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ভাংচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায় মুক্তিযোদ্ধার ছেলের ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আইনি প্রক্রীয়া চলমান।