বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
সাইটের সংস্কার কাজ চলছে, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পাশে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
শিরোনাম
ফ্রান্সে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুনামগঞ্জ তাহিরপুরের নাহিদুলের প্যানেল জয়ী সিসিকের ১নং ওয়ার্ডে শাহজালাল যুব ফোরাম ও নিয়াজ মো. আজিজুল করিমের ঈদ উপহার বিতরণ ওসমানী হাসপাতালে তোলপাড় : নির্মাণ শ্রমিকের মরদেহ উধাও ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন ৩৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তানভীর ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মেহবুব সিলেটের ওভারসিজ সেন্টার : মুখোমুখি জেলা প্রশাসন ও ইজারাদার ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আজিজ খাঁন সজিব সিসিকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান বিতরণ করলেন প্রশাসক ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন যুবদল নেতা মেহদী হাসান সাজাই ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন যুক্তরাজ্য যুবদল নেতা ইভান
সিলেটের ওভারসিজ সেন্টার : মুখোমুখি জেলা প্রশাসন ও ইজারাদার

সিলেটের ওভারসিজ সেন্টার : মুখোমুখি জেলা প্রশাসন ও ইজারাদার

নিউজ মিরর ডেস্ক
ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকার ওভারসিজ সেন্টার ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে সিলেটের জেলা প্রসাশন ও ইজারা গ্রহীতারা। বিষয়টি আদালতে গড়ালেও এখন পর্যন্ত কাটছে না উদ্বেগ।

সিলেটে প্রবাসীদের বিনিয়োগ, কেনাকাটা, তথ্যসেবা নিশ্চিত ও আবাসনের কথা মাথায় রেখে ১৯৭৮ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ বাংলাদেশ ওভারসিজ স্টোর ট্রাস্ট গঠন করেন। সরকারি অর্থায়নসহ প্রবাসীদের সহায়তায় একই বছর শুরু হয় নগরীর ব্যস্ততম এলাকা জিন্দাবাজারে ট্রাস্টের সেন্টার ভবন নির্মাণের কাজ। পাঁচতলার ফাউন্ডেশন দিয়ে ভবনের তৃতীয় তলা পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন করে জেলা প্রশাসন। যা ওভারসিজ সেন্টার নামে পরিচিত। সম্প্রতি ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে উদ্বেগ দেখা দেয় লিজগ্রহীতাসহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে।

ভবনটির নিচতলাসহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ১৭ জন ব্যক্তির কাছে বিভিন্ন পজিশন বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। বছরের পর বছর গেলেও ভবনটির সঠিক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হয়নি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত ভবনটি তাই আর এগোতে পারেনি। ফলে ওপরের অংশের ব্যবসায়ীরাও ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেয় নিজেদের।

এবার সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম নড়েচড়ে বসেন ওভারসিজ সেন্টার নিয়ে। তিনি প্রথমে ভাড়া বৃদ্ধি ও তা পরিশোধ করার নির্দেশ ছাড়াও সর্বশেষ সবার চুক্তি বাতিল করে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সেখানকার ভাড়াটিয়া ও বন্দোবস্ত-গ্রহীতাদের পজিশন সমঝে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এতে বেঁকে বসেন তারা।

বন্দোবস্তগ্রহীতারা বলছেন, তাদের সবকিছু ঠিক থাকার পরও চুক্তিপত্র দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাতিল করা হয়েছে। সেখানে নতুন করে ভবন হবে। ব্যবসায়ী ও বন্দোবস্তগ্রহীতাদের সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৮২ সালে ভবনটির উদ্বোধনের সময় কয়েকজন প্রবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সর্বোচ্চ একটি দোকানকোঠা দুই লাখ ১০ হাজার টাকা সালামি দিয়ে বন্দোবস্ত নেন। ওই সময় জেলা প্রশাসক ও ট্রাস্টি বোর্ড দোকান কক্ষগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে নিলামের মাধ্যমে ২০ বছরের জন্য লিজ প্রদান করেন। ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে ইজারা দেওয়া হয়নি। এমনকি সেন্টারের উন্নতি হয়নি।

বর্তমান জেলা প্রশাসক গেল বছরের অক্টোবরে প্রতি বর্গফুট আট টাকা থেকে ১০০ ও ১৫০ টাকা করে ভাড়া নির্ধারণ করেন। গত ৩০ ডিসেম্বর আবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন স্বাক্ষরিত চিঠিতে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে সব লিজ বাতিল এবং ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে দোকান ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে আপত্তি তোলেন বন্দোবস্তগ্রহীতাসহ ব্যবসায়ীরা।

ওভারসিজ সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, নিচতলায় ১০ থেকে ১২টি দোকান রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় জেলা কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট গ্রুপ ও ওভারসিজ সেন্টারের কার্যালয়ের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাডভাইজরি সার্ভিস) সাইনবোর্ড। তাদের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। সেখানে কিছু প্রতিষ্ঠানের গোডাউন থাকলেও সম্প্রতি নোটিশ পাওয়ার পর মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় তলায় একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ছিল; যা সাত-আট বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। সিঁড়ি ও দেয়ালগুলোর অবস্থা নাজুক। সামনে সাইনবোর্ডের কারণে মার্কেটের নামই ঢাকা পড়েছে। একজন নাইটগার্ড ও আরেকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন ভবনের দায়িত্বে।

জেলা প্রশাসকের পক্ষে উচ্ছেদের নোটিশ ও ভবন ভাঙার কথা জানানোর পর ইজারাগ্রহীতারা উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি আল জলিল ও বিচারপতি আনওয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জেলা প্রশাসককে শোকজ ও দুই সপ্তাহের রুল জারি করেন। রুলে ভবনের অবস্থা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন ছাড়া উচ্ছেদ ও ভবন ভাঙা কেন অবৈধ হবে না– তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এদিকে রুলের পরও দোকান মালিকদের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বন্দোবস্তগ্রহীতা মাহিদুল ইসলাম মাহিদ।

তিনি বলেন, তাদের ভবিষ্যৎ কী তা নিয়ে জেলা প্রশাসক কোনো নির্দেশনা দেননি। অথচ তাদের চুক্তি রয়েছে এবং সে মতে ভাড়াও দিয়ে আসছি।

সূত্র : সিলেট টুডে

 

শেয়ার দিয়ে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন, ধন্যবাদ।




© All rights reserved © 2012 Newsmirror24.news
ThemesBazar-Jowfhowo