শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
সাইটের সংস্কার কাজ চলছে, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পাশে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
শিরোনাম
বিএনপি নেতা রহিমের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ১৭ বছরের স্বৈরশাসকের পতনে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : মাহবুব চৌধুরী রাজনৈতিক জীবনে সুহেল চৌধুরীর শূন্যতা খুব বেশিই মিস করবো : হুমায়ুন কবির সিলেটে আগামী কয়েক দিন বজ্রবৃষ্টির আভাস ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন যুক্তরাজ্য সেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহ্ সুলেমান পায়রা সমাজকল্যাণ সংঘের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সিলেটে জাতীয় পার্টির ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সিলেটে ৭০টি হারানো মোবাইল ফিরিয়ে দিলো পুলিশ সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু : প্রথম দিনেই বিরোধী দলের ওয়াক আউট সিলেটে পুলিশের উপর হামলাকারি সেই পিকআপ চালক কারাগারে
বিএনপি নেতা রহিমের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

বিএনপি নেতা রহিমের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিউজ মিরর ডেস্ক
মামলা বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও মিনিবাস টার্মিনাল নিজের ব্যক্তিগতভাবে এবং চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম (রিপন) এর বিরুদ্ধে লিখিত অনাস্থা প্রকাশ করেছেন আহ্বায়ক কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাঁকে দল থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এ বিষয়ে তাঁরা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বকশী মিছবাহ উর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে কমিটিতে সদস্যসংখ্যা ৩৩। এর মধ্যে আমরা ২৬ জন দস্তখত দিয়েছি। আমি মনে করি, যেহেতু এই সদস্যসচিবের বিষয়ে সবার অনাস্থা; এখন নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলে জেলা বিএনপির জন্য ভালো হবে।’

জানতে চাইলে বিএনপি জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ভিপি মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রথমেই আমরা ১৯ জন তাঁর বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম। এখন তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আসছে। এখন প্রায় সবাই তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দেখা যাক, কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম (ময়ূন) ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম বর্তমানে সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে অবস্থান করছেন। হোয়াটসঅ্যাপে আব্দুর রহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম বলেন, “ওমরাহ করতে এসেছি। দেশে এসে বিস্তারিত জানাবো।”

লিখিত অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে , গত ৭ মার্চ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো অভিযোগপত্রে আব্দুর রহিম রিপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ফয়জুল করিম ময়ূনকে আহ্বায়ক করে ৩২ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সে সময় কমিটিতে সদস্য সচিবের কোনো পদ রাখা হয়নি। নতুন আহ্বায়কের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম নাসের রহমানের অনুরোধে একজন সিনিয়র নেতাকে সদস্য সচিব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরে ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর আব্দুর রহিম রিপনকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়, যা জেলা বিএনপি অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মীকে বিস্মিত করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আহ্বায়ক কমিটির তৎকালীন সংখ্যাগরিষ্ঠ ১৯ সদস্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করে রিপনের অব্যাহতি দাবি করেন। পাশাপাশি জেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয় এমন বিষয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে দলীয় অচলাবস্থা নিষ্পত্তি করা হবে।

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির কোন্দল নিরসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ. জেড. এম জাহিদ হোসেন এবং সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ এর উপস্থিতিতে জেলা আহ্বায়ক কমিটির একটি সভা আহ্বায়ন করা হয়। শুরুতে প্রতিবাদী ১৯ সদস্য সভা বয়কট করলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুরোধে পরে তারা সভায় অংশ নেন।

অভিযোগপত্রে আব্দুর রহিম রিপনের বিরুদ্ধে দলীয় নিয়মনীতি ভঙ্গ, সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে অসম্মান করা, কমীদের কাছে তৃণমূলের অগ্রহণযোগ্য আচরণ এবং দ্বিমুখী কর্মকান্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে জেলা বিএনপির রাজনীতি স্বাভাবিক রাখতে তাকে সদস্য সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আহ্বায়ক কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রিপন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে ব্যবসাবাণিজ্য করেছেন। তার ভাই ঢাকার দক্ষিণখান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি হত্যা মামলার আসামি বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, রিপন এখনো আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি জেলার মিনিবাস টার্মিনাল ব্যক্তিগতভাবে দখলে নিয়েছেন এবং এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, তার ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে এবং অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা-বাণিজ্যের মাধ্যমেও বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন তিনি।

১২ ফেব্রুয়ারি সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ চলাকালে তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে অভিযোগপত্রে। অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্বে থেকেও তিনি কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বস্ত সূত্রে তাঁরা জানতে পেরেছেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে বিএনপির প্রার্থীকে হারানোর জন্য বড় অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেছেন এবং তাদের এজেন্ডা অনুযায়ী কাজ করেছেন।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, তিনি জেলার সিনিয়র নেতাদের ন্যূনতম সম্মান দেখান না এবং বিভিন্ন নেতার মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করছেন। এ কারণে সদস্য সচিবকে বাদ রেখে একটি সভা আহ্বানের জন্য তাঁরা জেলা আহ্বায়কের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সভা আহ্বানের চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি অনিবার্য কারণ দেখিয়ে ওই সভা স্থগিত করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে আহ্বায়ক কমিটির ২৬ সদস্য আব্দুর রহিম রিপনকে সদস্য সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।

অভিযোগপত্রের অনুলিপি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিলেট বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত ডা: এ. জেড.এম জাহিদ হোসেন এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক সিলেট সম্পাদক জি কে গউছের কাছে পাঠানো হয়েছে। আবেদনকারীরা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানান।

 

শেয়ার দিয়ে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন, ধন্যবাদ।




© All rights reserved © 2012 Newsmirror24.news
ThemesBazar-Jowfhowo