
নিউজ মিরর ডেস্ক
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম আমাদের প্রেরণার উৎস। মুক্তিযুদ্ধে শহীদান ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ট সন্তান। লাখো শহীদের রক্তে বিশ্বের বুকে স্বাধীন সার্বভৌম জাতি হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠিত হলেও সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে স্বাধীনতার এত বছর পরও কাংখিত সুফল থেকে জাতি বঞ্চিত। যার প্রেক্ষিতে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। জাতি ফ্যাসিবাদের ভয়াল থাবা থেকে মুক্তি লাভ করে। কিন্তু সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন হওয়া সরকারী দলের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরিপন্থী অবস্থান জাতিকে ফের শঙ্কিত করছে। আবারো ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি জাতি মেনে নিবেনা। স্বাধীনতার সুফলকে জাতির দ্বারে পৌছে দিতে গণভোটের প্রতিফলন ও সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, জামায়াত গণমুখী, কল্যাণকামী ও গণতান্ত্রিক একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে রক্তস্নাত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জামায়াত ছাত্র-জনতার সাথে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। স্বাধীনতার সুফল জাতির দ্বারে পৌঁছে দিতে ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াত যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে পারে। ইতোমধ্যে এর আলামত দেখা যাচ্ছে। সংস্কার নিয়ে বর্তমান সরকারী দলের দ্বিমুখী নীতি জাতিকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। যা কোনভাবেই কাম্য নয়, এর ফল ভালও হবেনা। কারণ দাবী আদায়ে ছাত্র-জনতা যেকোন সময় রাজপথে নেমে আসতে পারে।
বুধবার (২৫ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট জুবায়ের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক সিলেটের কৃতি সন্তান জেনারেল এমএজি ওসমানী আজ নানাভাবে উপেক্ষিত যা কোনভাবেই কাম্য নয়। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদদের মাগফেরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ মুক্ত ও ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করা না হলে শহীদের আত্মা শান্তি পাবেনা।
তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের এমন পতনের পরও সেই একই স্টাইলে দেশ পরিচালনার ফলাফল ভালো হবেনা। ব্যাংক-বীমা থেকে শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদসহ সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ। এজন্য হাজার হাজার ছাত্র-জনতা জীবন ও রক্ত দেয়নি। তাই সময় থাকতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াত একসাথে সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে, মহানগর সহকারী সেক্রেটারী জাহেদুর রহমান চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী জয়নাল আবেদীন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারী এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, সিলেট মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু ও জামায়াত নেতা মু. আজিজুল ইসলাম প্রমূখ। এছাড়া সভায় সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন থানা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার অতীতে জাতিকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। অথচ আমাদের স্বাধীনতার চেতনা ছিল ঐক্যের, বিভক্তির নয়। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা অতীতের সকল ষড়যন্ত্র নস্যাত করে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে থাকা একটি দল ক্ষমতায় গিয়ে নিজেরা ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রস্তাবকে উপেক্ষা করছে। তারা সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছে। এমনকি জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে শুধুমাত্র তাদের নিজ দলের লোকদের রেখেছে। অথচ অতীতে এসব কমিটিতে বিরোধী দল ও মতের মানুষকে রাখা হয়েছে। এইধরণের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা জনগণ মেনে নিবেনা। জামায়াত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবসময় রাজপথে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ইনশাআল্লাহ।