রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
সাইটের সংস্কার কাজ চলছে, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পাশে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
শিরোনাম
আওয়ামী লীগের দোসর মঈনুল আশরাফী আসলে কার? বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের সমর্থনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সিলেট মহানগর যুবদলের কমিটি ঘোষণা : সভাপতি সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক দিনার সিলেট জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা : সভাপতি মকসুদ, সাধারণ সম্পাদক টিপু শ্রুতি লেখকের দায়িত্ব পালন করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পল্লব : অচিনপুরী মেজরটিলায় পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস ইসলামপুর’ ক্যাম্পেইনও ডিজিটাল সেলফ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারে ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন ও সেফটি প্ল্যান সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে মতবিনিময় সিলেটে যুক্তরাজ্যগামী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এএইচ জেড এসোসিয়েট এর প্রি-ডিপারচার প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কালারফুল সিলেটের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘সিলেট হেরিটেজ আর্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত সিলেটের জিডিএফ’র প্রতিষ্ঠাতা রজব আলী খানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
আওয়ামী লীগের দোসর মঈনুল আশরাফী আসলে কার?

আওয়ামী লীগের দোসর মঈনুল আশরাফী আসলে কার?

বিশেষ প্রতিবেদক
নামের সঙ্গে ‘চেয়ারম্যান’। অথচ তিনি কোনো জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নন। তিনি সিলেট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান-আর সেই সাংগঠনিক পরিচয়েই নিজের নামের সঙ্গে ‘চেয়ারম্যান’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তবে তাঁর পদবি নয়, এখন আলোচনায় এসেছে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয়ের পরিবর্তন।

মঈনুল ইসলাম আশরাফীকে ঘিরে প্রকাশ্য তথ্য ও বিভিন্ন সময়ের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি একেক সময়ে একেক সংগঠন কিংবা রাজনৈতিক পরিসরের পরিচয় বহন করেছেন-এমন অভিযোগ রয়েছে। একসময় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, বিভিন্ন নেতার সঙ্গে ছবি, প্রশংসাসূচক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবার তাঁকে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকায়। সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরেও তাঁর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ফলে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মঈনুল ইসলাম আশরাফীর পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও ছবিগুলো নিয়ে নানা তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের একাধিক ছবি ও পোস্ট রয়েছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের পাশে বসে তাঁর ছবি এবং পরে তাঁকে প্রশংসা করে লেখা দীর্ঘ পোস্টের কথাও আলোচনায় এসেছে। একইভাবে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সহসভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তাঁর ছবি ও যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

এমনকি ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা, সাবেক মেয়র কামরান পুত্র সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান আহমদ শিপলু ছবি পোস্টারের উপরে রেখে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানোর পোস্টও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিল।

তবে এখানেই শেষ নয়। সাম্প্রতিক প্রকাশ্য মঈনুল ইসলাম আশরাফীকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে নয়, বরং ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও তাঁকে ইসলামী ঐক্যজোটের হাফিজ মাওলানা মঈনুল ইসলাম আশরাফী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে সিলেটে শাপলা চত্বর ও জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতেও তাঁকে সিলেট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই কর্মসূচিতে বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠনের নেতাও উপস্থিতি ছিলেন।

এমনকি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত একটি মানববন্ধনে মঈনুল ইসলাম আশরাফীর বক্তব্য দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এই বক্তব্যে ‘ধর ধর ছাত্রলীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’ স্লোগান দিতে শুনা যায়।

অন্যদিকে তাঁকে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সঙ্গেও যুক্ত বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে তাঁর এনসিপির কোনো আনুষ্ঠানিক পদে থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখানেই মঈনুল আশরাফীর রাজনৈতিক পথচলার সবচেয়ে লক্ষণীয় দিকটি সামনে আসে। সময়ের সঙ্গে তাঁর সঙ্গে যুক্ত সংগঠন, রাজনৈতিক পরিসর ও পরিচয়ের পরিবর্তন ঘটেছে-এমন চিত্রই বিভিন্ন প্রকাশ্য তথ্য থেকে পাওয়া যায়। কখনো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি ও প্রশংসাসূচক পোস্ট, পরে আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থান, এরপর ইসলামপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং একই সময়ে এনসিপির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের আলোচনা-এই ধারাবাহিকতা তাঁকে নিয়ে ‘বহুরূপী রাজনৈতিক পরিচয়’-এর প্রশ্ন সামনে এনেছে।

তাই বলাই যায়, আলোচনার কেন্দ্রে এখন শুধু ‘মঈনুল আশরাফী আসলে কার-এনসিপি না আওয়ামী লীগ?’ নয়; বরং আরও বড় প্রশ্ন-একেক সময়ে একেক সংগঠন ও রাজনৈতিক পরিচয় বহন করা মঈনুল আশরাফীর প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান কোনটি? যেখানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সকল সংগঠনের নেতারা জেলে যাওয়ার ভয়ে তটস্থ সেখানে আশরাফী আওয়ামী লীগ করেও কীভাবে দিব্যি সিলেটের রাজপথে রাজত্ব করে ঘুরছেন।

শেয়ার দিয়ে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন, ধন্যবাদ।




© All rights reserved © 2012 Newsmirror24.news
ThemesBazar-Jowfhowo