শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
সাইটের সংস্কার কাজ চলছে, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পাশে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
শিরোনাম
সিসিকের বাছিত সিন্ডিকেট : প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা! সিলেটে সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, থানায় জিডি ওসমানী মেডিকেলের মুদ্রণসামগ্রী ক্রয়ের দরপত্রে বড় ধরনের অনিয়ম! আওয়ামী লীগের দোসর মঈনুল আশরাফী আসলে কার? বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের সমর্থনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সিলেট মহানগর যুবদলের কমিটি ঘোষণা : সভাপতি সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক দিনার সিলেট জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা : সভাপতি মকসুদ, সাধারণ সম্পাদক টিপু শ্রুতি লেখকের দায়িত্ব পালন করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পল্লব : অচিনপুরী মেজরটিলায় পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস ইসলামপুর’ ক্যাম্পেইনও ডিজিটাল সেলফ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারে ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন ও সেফটি প্ল্যান সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে মতবিনিময়
সিসিকের বাছিত সিন্ডিকেট : প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা!

সিসিকের বাছিত সিন্ডিকেট : প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা!

বিশেষ প্রতিবেদক
সিলেট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায় ও হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ কার্যক্রম ঘিরে অনিয়ম, কর কমানো এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন চীফ এসেসর (চলতি দায়িত্ব) আব্দুল বাছিত, এসেসর আখতার সিদ্দিকী বাবলু ও এসেসর কবির উদ্দিন চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠা, সংবাদ প্রকাশ, মানববন্ধন ও তদন্তের উদ্যোগের কথা সামনে এলেও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।

তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক মহল। তাদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আলোচনায় থাকার পরও বিষয়গুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে না কেন?

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের সময়ে সিসিকের কর নির্ধারণ ও কমানোর কার্যক্রম ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে উঠেছিল। ওই বলয়ের সঙ্গে আব্দুল বাছিত, আখতার সিদ্দিকী বাবলু ও কবির উদ্দিন চৌধুরীর যোগাযোগ ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সিসিকের কয়েকজন কর্মচারীর অভিযোগ, হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ কিংবা কমানোর প্রক্রিয়ায় কিছু করদাতাকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হতো। এ ক্ষেত্রে শহীদ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরেও কর কমানোর বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিভিন্ন আবেদনে কর কমানোর পরিমাণ হাতে লিখে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ সামনে আসার পর সিসিকের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগের কথা জানা যায়। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্তে কর কমানোর নথি, সংশ্লিষ্ট আবেদন এবং কথিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের কারণে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনটি এখনও অদৃশ্য কারনে সিসিকের অন্ধরমহলে আটকে আছে।

জানা গেছে, সিসিকের বর্ধিত এলাকার নতুন ভবন ও বড় হোল্ডিংগুলোর কর নির্ধারণ এবং পুনর্মূল্যায়ন কার্যক্রম নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। কর শাখার মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মীর ভাষ্য, কিছু বড় ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ হোল্ডিংকে বাছাই করে ধাপে ধাপে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা চলছে।
সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন- কর নির্ধারণ ও পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে অনিয়মের সিসিকে সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে সিসিকের সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের বাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের উৎস এবং সেগুলোর সঙ্গে বৈধ আয় ও ঘোষিত সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সিসিকের একটি পক্ষ।

সিসিকের একটি সূত্র জানিয়েছে, সিসিকের রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত ফাইল প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। রাজস্ব বৃদ্ধি নগর কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলেও কর নির্ধারণ, পুনর্মূল্যায়ন কিংবা কর কমানোর প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হচ্ছে না। কোনো হোল্ডিংয়ের কর অযৌক্তিকভাবে কম নির্ধারণ করা হলে সিসিকের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে, যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়া অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলেও সাধারণ করদাতারা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।

বাসিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আলোচনায় থাকা এবং তদন্তের উদ্যোগের পরও বিষয়গুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় কয়েকটি প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
×) কর কমানোর পুরোনো অভিযোগগুলোর নথি কি পুনরায় যাচাই করা হয়েছে?
×) তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থাকলে তাতে কী সুপারিশ করা হয়েছিল?
×) অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না?
×) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদ ও আয়ের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের প্রয়োজন আছে কি না-এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা জরুরি।

সিসিকের সচেতন নাগরিকদের দাবি, এসব অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আব্দুল বাছিত, আখতার সিদ্দিকী বাবলু ও কবির উদ্দিন চৌধুরীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তাদের দায়িত্বকালীন কর নির্ধারণ ও কমানোর নথি, সংশ্লিষ্ট অনুমোদন, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদ ও আয়ের তথ্য যাচাই করা হোক। সব মিলিয়ে, বিষয়টি শুধু কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, করদাতাদের স্বার্থ এবং নগরবাসীর অর্থের সঠিক ব্যবহার। তাই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে চীফ এসেসর (চলতি দায়িত্ব) আব্দুল বাছিতকে কল করলে তিনি বলেন, কে অভিযোগ করেছে, নাম বলেন। এতো সম্পদ বানিয়েছেন কিভাবে এমন প্রশ্নে তিনি এড়িয়ে বলেন মুঠোফোনে কিছু বলা যাবে না। সিসিকে আসেন। এছাড়া এসেসর আখতার সিদ্দিকী বাবলু ও এসেসর কবির উদ্দিন চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলে তারা কল রিসিভ করেন নি!

 

শেয়ার দিয়ে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন, ধন্যবাদ।




© All rights reserved © 2012 Newsmirror24.news
ThemesBazar-Jowfhowo