
দরপত্র মূল্যায়নে গড়মিল, সর্বনিম্ন দরদাতাদের বাদ দিয়ে কাজ প্রদানের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিবেদক
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুদ্রণসামগ্রী ক্রয়ের দরপত্রে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর দরপ্রস্তাব, কারিগরি যোগ্যতা ও আর্থিক গ্রহণযোগ্যতার তথ্যে চরম অসঙ্গতি দেখা গেছে।
নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন যোগ্য দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়ার কথা থাকলেও, অভিযোগ রয়েছে মূল্যায়নে পেছনের সারিতে থাকা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ৩টি প্রতিষ্ঠানের দর প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে কম হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোকে ‘অস্বাভাবিক কম’ (Significantly Low-Priced) অজুহাতে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে দরদাতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি ই-জিপি (e-GP) পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃক আহ্বানকৃত এই দরপত্রের আইডি ১৩১৮২৫০ (রেফারেন্স: Somch/Printing Items/2026/890)। প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৭ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা। গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দরপত্র জমা ও খোলার প্রক্রিয়া শেষ হয়, যেখানে মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
দরপত্রের মূল্যায়ন নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দরপত্র জমা দেওয়া ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে কম দর হাঁকিয়েছিল ‘এম/এস মির্জা এন্টারপ্রাইজ’ (৩৪ লাখ ৪০ হাজার ৮১০ টাকা), ‘এম/এস রাসেল ট্রেডার্স’ (৩৪ লাখ ৭৪ হাজার ৫৩ টাকা) এবং ‘এম/এস রাফি ট্রেডার্স’ (৩৪ লাখ ৮২ হাজার ৮৯২.৫০ টাকা)। তবে হাসপাতালের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির দ্বিতীয় নথিতে এই ৩টি প্রতিষ্ঠানের দর গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন সীমার নিচে থাকার দোহাই দিয়ে তাদের ‘আর্থিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অন্যদিকে, প্রাক্কলিত ব্যয়ের কাছাকাছি দর দেওয়া ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে গ্রহণযোগ্য দেখানো হয়। এর মধ্যে ৩৬ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকার দরপ্রস্তাব দিয়ে মূল্য তালিকায় শীর্ষে রাখা হয় ‘এম/এস মেডিকন সার্জিক্যাল’কে এবং প্রতিবেদনে তাদের বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তালিকার অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এম/এস সুমন এন্টারপ্রাইজ (৩৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা), গ্রাফিকস মিডিয়া (৩৬ লাখ ৯৯ হাজার ২০০ টাকা), এম/এস কামাল এন্টারপ্রাইজ (৩৬ লাখ ৯৯ হাজার ৭০০ টাকা), জানানি প্রিন্টার্স (৩৭ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকা) এবং উদয়ন অফসেট প্রেস (৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৭৪.১৭৯ টাকা)।
এছাড়া অতিরিক্ত দর হাঁকানোর অভিযোগে ‘প্রিন্টলাইন’ (৪৪ লাখ ১০ হাজার ৯৫৫.৮৯ টাকা) ও ‘মুহাম্মদী বে অব কম্পিউটেক’ (৫০ লাখ ৬ হাজার ৫৯৩.০৯ টাকা)-কে মূল্যায়নের বাইরে বা ‘Upper Limit’ তালিকায় রাখা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ক্রমিক ও মূল দরপ্রস্তাবের তথ্যে মারপ্যাঁচ তৈরি করে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অযৌক্তিকভাবে বাদ দিয়ে সরকারি অর্থের বিপুল অপচয় ঘটানো হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দরদাতা দাবি করেছেন।
এ নিয়ে হাসপাতালের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির স্বচ্ছতা ও সচ্ছলতা নিয়ে প্রশাসনিক ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।