
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে স্পেন পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও জাল ডকুমেন্ট দিয়ে প্রতারণার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ফরহাদ, যার পিতার নাম মো: হাবিব হুসেন। বর্তমানে স্পেনে অবস্থান করে ফরহাদ দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র পরিচালনা করছেন এবং সাধারণ মানুষকে ইউরোপে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিঃস্ব করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্বনাথের বাসিন্দা ফরহাদ সুপরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সম্প্রতি আলমগীর নামের এক ভুক্তভোগী ফরহাদের এই প্রতারণার শিকার হয়ে তার সর্বস্ব হারিয়েছেন। আলমগীরকে স্পেনে নিয়ে উচ্চ বেতনের চাকুরির অবাস্তব স্বপ্ন দেখিয়ে বিভিন্ন দফায় ও কৌশলে মোট ৪৮ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন ফরহাদ ও তার সহযোগীরা।
টাকা লেনদেনের প্রমাণ ঘেঁটে দেখা যায়, ফরহাদ বিভিন্ন তারিখে সুনির্দিষ্টভাবে এই অর্থ হাতিয়ে নেয়। যার মধ্যে গত ০২ সেপ্টেম্বর ৭০,০০০ টাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ১,০০,০০০ টাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ৫,০০,০০০ টাকা এবং ২০ সেপ্টেম্বর দুই দফায় যথাক্রমে ১,৫০,০০০ টাকা ও ৫০,০০০ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া বাকি টাকা বিভিন্ন ধাপে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও নগদের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী আলমগীরের সরলতার সুযোগ নিয়ে এবং তার বিশ্বাস অর্জন করতে ফরহাদ স্পেনের কিছু সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল কাগজপত্র (ডকুমেন্ট) তৈরি করে পাঠায়। কিন্তু বিপুল পরিমাণ এই টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও তাকে স্পেনে নেওয়ার কোনো বাস্তবমুখী ব্যবস্থা করা হয়নি। উল্টো এখন চাপ প্রয়োগ করা হলে ফরহাদ সমস্ত ফোন কল ধরা বন্ধ করে দিয়েছে এবং যোগাযোগের সব নম্বর ব্লক করে দিয়েছে।
বর্তমানে ফরহাদ স্পেনে বসেই এই মানবপাচারের সিন্ডিকেট নিরাপদ দূরত্বে থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারটি দাবি করেছে। টাকা লেনদেনের যাবতীয় নথিপত্র, ব্যাংকের স্লিপ এবং ফরহাদের পাঠানো জাল ডকুমেন্টের সমস্ত প্রমাণাদি এখন ভুক্তভোগী আলমগীরের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এই প্রতারণার কারণে আলমগীরের পুরো পরিবার এখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং চরম আর্থিক সংকটে দিনাতিপাত করছে।
এমতাবস্থায়, ভুক্তভোগী আলমগীর ও তার পরিবার এই আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং সুষ্ঠু বিচারের আশায় সরকারের মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মন্ত্রীর কাছে একটি সুষ্ঠু সমাধান দাবি জানিয়ে তাদের কষ্টার্জিত ৪৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার এবং এই মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।