শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
সাইটের সংস্কার কাজ চলছে, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পাশে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
শিরোনাম
সিলেটের উন্নয়নে সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ

সিলেটের উন্নয়নে সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ

নিউজ মিরর ডেস্ক
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিলেট আজ অবহেলা, দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক গাফিলতির এক বেদনাদায়ক অধ্যায়ে অবস্থান করছে। সিলেটের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণ এবং বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভয়াবহ দুরবস্থার প্রতিবাদে ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার লন্ডনের অলতাব আলী পার্কে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এই সমাবেশের আয়োজন করে যুক্তরাজ্যবাসী সিলেট প্রবাসী সমাজ। এতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী, তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী ও কমিউনিটি নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন কে.এম আবু তাহের চৌধুরী, সঞ্চালনা করেন মো. আমিনুল ইসলাম,
এবং ছয় দফা দাবির উপর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইফতেকার সিদ্দিকী ইফতি।

সমাবেশে বক্তব্য দেন- আব্দুল মুকিত, তাজুল ইসলাম, সাইদুজ্জামান সুমন, আব্দুর রব, জাকির চৌধুরী, আব্দুল বাছিত রাফি, আফছার আহমদ, মিজান ওয়াহিদ, শাহীন আলম সানী, মামুন আহমদ, আসাদুজ্জামান শাফী, ফয়েজ আহমদ, ইলিয়াস হোসেন, সুমন আহমদ,
এবং সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, তিন বছর আগে যে ছয় লেন প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে আধুনিক করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, আজ পর্যন্ত তার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
গর্তে ভরা রাস্তা, অবিরাম যানজট, দুর্ঘটনা আর ধুলাবালিতে ঢাকা পথ আজ মানুষের জীবনে পরিণত হয়েছে এক নিত্যদিনের যন্ত্রণায়। এর প্রভাব পড়ছে দেশের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে।

বক্তারা আরও বলেন, সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম রেমিট্যান্স কেন্দ্র—প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির বড় অংশ বহন করেন। অথচ সেই প্রবাসীরাই দেশে ফিরে যখন নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারেন না, তখন সেটি শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, অপমানও বটে।

পাশাপাশি উপস্থিত সবাই চোখ বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান, যার মাধ্যমে তারা সিলেটের প্রতি সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।

ইফতেকার সিদ্দিকীর পাঠ করা লিখিত বক্তব্যে সিলেটের উন্নয়ন ও নাগরিক ভোগান্তি নিরসনে ছয়টি দাবির কথা তুলে ধরা হয়—

১. ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
২. প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. শিক্ষার্থী, রোগী, পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করতে হবে।
৪. ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করতে হবে।
৫. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিকল্প পরিবহন রুট (ট্রেন ও নৌপথ) চালু করতে হবে।
৬. পর্যটন খাতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশেষ প্রণোদনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা সতর্ক করে বলেন—যদি সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে সিলেটবাসী ন্যায্য অধিকার আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

তারা একক কণ্ঠে উচ্চারণ করেন—
“সিলেট উন্নয়ন চাই—কাগজে নয়, রাস্তায়; প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে!”

 

শেয়ার দিয়ে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন, ধন্যবাদ।




© All rights reserved © 2012 Newsmirror24.news
ThemesBazar-Jowfhowo