সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন

নোটিশ
সাইটের সংস্কার কাজ চলছে, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পাশে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
শিরোনাম
সিলেটে বিএনপির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগ নেতা! সিলেটে যুবদল নেতার ক্ষোভ : রাজনীতিতে প্রতিযোগিতার বদলে চলছে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি সবকিছুতে সংবিধান খুঁজতে গেলে বিপদে পড়বেন : জামায়াত আমির জৈন্তাপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ : ৪টি ইঞ্জিনসহ নৌকা ধ্বংস সিলেটে একদিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৬ জন নিহত সিলেট সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ :৪ শিশুসহ ১৮ জন আটক যুবদল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পর বহিস্কার হলেন উসমান গনি! সিলেটে তোলপাড় : যুবদল থেকে পদত্যাগ করলেন ওসমান গনি ঈদের দিনে সিলেট ছাত্রদলের মহতি উদ্যোগ : অসুস্থ রোগীদের ঈদ উপহার নবীগঞ্জে তরুণীর ছবি তোলা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৪০
সিলেটে বিএনপির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগ নেতা!

সিলেটে বিএনপির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগ নেতা!

বিশেষ প্রতিবেদক
সিলেট নগরীর ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির ঈদ পুনমিলনী অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগপন্থি ১২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা সিকন্দর আলীকে প্রধান অতিথি করায় এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী দল সিলেট বিএনপিকে নিয়ে তুমুল সমালোচনা চলছে।

প্রকাশ্যে ওয়ার্ড বিএনপির ঈদ পুনমিলনী অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতার প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়া- কিসের ইঙ্গিত বহন করছে? তবে কি সিলেট বিএনপি আওয়ামী লীগের নেতাদের পুনর্বাসন করছে? এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সিলেট বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সমালোচনা করে এমন প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।

গত ২১ মার্চ শনিবার ঈদের দিন রাতে নগরীর ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে একটি ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ঈদ পুনর্মিলনী প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। তবে, তাকে ঈদ পুনর্মিলনী রেখেই আওয়ামী লীগপন্থি ১২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা সিকন্দর আলীকে প্রধান অতিথি করা হয়।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওয়ার্ডের এক বিএনপি নেতা জানান, আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগপন্থি ১২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা সিকন্দর আলী নির্বাচন করবেন। সে অনুযায়ী তিনি তারই ছোটভাই সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমকে দিয়ে এই আয়োজন করেছেন। এর আগে রমজানের মাসের শেষের দিকে স্থানীয়দের দাওয়াত দেয়া হয়েছে এলাকার একটি সংগঠনের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান হবে। পরে সেটি পরিবর্তন করে ওয়ার্ড বিএনপির ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করা হয়। ওয়ার্ড বিএনপির ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয় সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। প্রোগ্রামের ব্যানারেও তার নাম লিখা হয়। পরে আমি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে যখন সঞ্চালকের মুখে শুনি ওয়ার্ড বিএনপির ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগ নেতা সিকন্দর আলী! আমি সেখান থেকে চলে আসি। আরেকটি কথা না বললেই নয়, সিলেট মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বিষয়টি জানেন। অদৃশ্য কারনে তারা কেউই এই বিষয়ে প্রতিবাদ করবেন না। মুলত তারাই আওয়ামী লীগ নেতা সিকন্দর আলীকে তারই ছোটভাই সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপিতে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন। ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর সিকন্দর আলী। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনার একাধিক মামলাও হয়েছিলো। এসব মামলা বাদির সাথে আপোষ করা হয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা সিকন্দর আলী বিএনপি নেতা সাজার পরিকল্পনা করছেন।

সিলেট বিএনপি কি অন্ধ, নাকি টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন? বিএনপির প্রোগামে আওয়ামী লীগ নেতা প্রধান অতিথি! আশ্চর্য, আরো কতো কি দেখা লাগবে…সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমনটাই লিখেছেন ছাত্রদল কর্মী সুমন আহমদ। আরেক অনলাই এক্টিভিটিস দিপু লিখেছেন, সিলেট বিএনপিতে এখন টাকা দিলেই এখন পদ মিলে। হওক সে আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলেন নেতা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা, মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে। এরকম অহরহ প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।

বিষয়টি জানতে সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তার মুঠোফোন বন্ধ দেখায়।

২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশন ১২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিকন্দর আলী। ওই রাতে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা সরওয়ার হোসেন ও রকিবুল ইসলাম ঝলক।

সেই আওয়ামী লীগে যোগদান প্রসঙ্গে সিকন্দর আলী গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ১৯৯০ সাল থেকে ৯৬ পর্যন্ত বাকশালের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার পর নানা কারনে অনেক দিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পর পুনরায় আওয়ামী লীগে যোগদানের মাধ্যমে আমার লাইসেন্স রিনিউ করালাম।

সেই সময়ে সিকন্দর আলী আরও বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সারা দেশে এবং সিলেটে সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে অর্থমন্ত্রীর সহযোগিতায় যে উন্নয়ন হয়েছে তা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। তার বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি শোনা গেলেও তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, আমি কোন সময় বিএনপির সাথে ছিলাম না। এমনকি বিএনপির কোন মিটিং মিছিলেও কোন দিন তিনি যাইনি।

 

শেয়ার দিয়ে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন, ধন্যবাদ।




© All rights reserved © 2012 Newsmirror24.news
ThemesBazar-Jowfhowo