
বিশেষ প্রতিবেদক
সিলেটে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার আসামী হিসেবে অভিযুক্ত যুবলীগ ক্যাডার তানজিন আহমদ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যুবলীগ ক্যাডার তানজিন আহমদ পলাতক সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খান ‘খাস’ অনুসারী এবং ভাগ্নে। তানজিন আহমদ ২৪ এর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তার মামা আফতাব হোসেন খানের নেতৃত্বে অস্ত্রসহ মিছিল সহকারে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করে। ঘটনার সময়ে সিলেটে কর্তব্যরত গণমাধ্যম কর্মীরা এই হামলার স্থিরচিত্র এবং ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেন। ২৪ এর আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পালানোর পর প্রায় ১ বছর গা ঢাকা দেয় যুবলীগ ক্যাডার তানজিন আহমদ। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর সে আবার নিজ এলাকা পশ্চিম পীর মহল্লায় প্রকাশ্যে এসেছে। তবে অদৃশ্য কারনে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গ্রেফতারের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
২৪ এর জুলাই এবং আগস্টের আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর অস্ত্র দিয়ে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া এসএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলায় তানজিন আহমদের নাম উল্লেখ রয়েছে। এরপরও সে প্রকাশ্যে বিভিন্ন এলাকায় চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
পশ্চিমপীর মহল্লার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পলাতক আসামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আফতাব হোসেন খানের নেতৃত্বে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় যে সকল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিলো। সেই সকল অস্ত্র এখন যুবলীগ ক্যাডার তানজিন আহমদ সংরক্ষন করে রেখেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুবলীগ ক্যাডার তানজিন আহমদ তার মামা সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খানের প্রভাব খাটিয়ে পশ্চিমপীর মহল্লার কয়েকটি বাসা দখল করে রেখে ছিলো। ২০২৩ সালের জুন ১২ মঙ্গলবার সিসিকের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সায়ীদ মো. আবদুল্লাহ বাসায় কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের নেতৃত্বে ১০-১২টি মোটরসাইকেলে যুবলীগ ক্যাডার তানজিন আহমদসহ ২৫ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাঁর বাসার ফটকের সামনে বন্দুক তাক করে তাঁকে (আবদুল্লাহ) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেন। পাশাপাশি নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে আব্দুল্লাহ’র ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় তারা।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়ক অভিযোগ করে বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকেই এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তানজিন আহমদ প্রকাশ্যে ঘুরলেও প্রশাসনের নীরবতা রহস্যজনক।”
পীরমহল্লার স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও গ্রেফতার না হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে এসএমপির এয়ারপোর্ট থানার এক কর্মকর্তা জানান, মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত যুবলীগ ক্যাডার তানজিন আহমদকে গ্রেফতার করা না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।