
সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস বলেছেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা কেবল লেখাপড়া করেই এগিয়ে যাচ্ছে না, বরং তাদের অনেকের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সত্যিকার মেধা ও সুপ্ত প্রতিভা। সঠিক সুযোগ ও পরিবেশ পেলে তারা আর দশটা সাধারণ মানুষের মতোই সমাজের সর্বস্তরে অবদান রাখতে সক্ষম হবে এবং সমাজের কল্যাণে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে যাবে। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা এবং কল্যাণে বড় পরিসরে কাজ করা ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের জন্যই একটি অভিন্ন লক্ষ্য।
তিনি রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্হ গ্রীণ ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন (জিডিএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘মৌসুমী ফল উৎসব’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জিডিএফ’র উপদেষ্টা বিশিষ্ট সংঙ্গীত শিল্পী হিমাংশু বিশ্বস এর সভাপতিত্বে ও গ্রীণ ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক মো. বায়জিদ খানের পরিচালনায় ফল উৎসবে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রম মন্ত্রী আরিফুল চৌধুরী এমপির সহধর্মিণী হিউম্যান কেয়ার সিলেটের চেয়ারম্যান শামা হক চৌধুরী, সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী, দৈনিক যুগান্তর সিলেট অফিসের ব্যুরো চিফ সংগ্রাম সিংহ, নিউ হামবারার কাউন্সিলর সাব্বির আহমদ সানি, বিশিষ্ট অভিনেতা বেলাল আহমদ মুরাদ, রহমানিয়া প্রতিবন্ধী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলতাউর রহমান খান শামছু।
জিডিএফ’র নির্বাহী সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক জাবেদ এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সুচিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জিডিএফ’র সভাপতি প্রমেশ দত্ত, জিডিএফ ডিকেএফ’র কোষাধ্যক্ষ দিদার আহমদ, দিশারী প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও সভাপতি আবুল লেইছ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ সাইদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী নার্গিস বেগম, জিডিএফ’র নির্বাহী সদস্য সাবিলা কান্তা, সদস্য পাথর্ সারথি দত্ত, ফাতেমা বেগম, নৃত্যশিল্পী অনিতা সিংহ, স্বপ্না বেগম, সংগঠক মখন মিয়া ও কামাল আহমদ, জিডিএফ’র সমন্বয়কারী শারমিন আক্তার রেবা, সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম সোহেল ও রাব্বানী হোসেন, সদস্য ববি বেগম, অভিভাবক সোনিয়া বেগম, সীমা বেগম, রেহেনা বেগম ও রোকিয়া বেগম, শিক্ষক মো. ফয়েজুল হাসান ফারহান, আনিসুল হক, ওয়াসিম আহমদ, স্বরূপা বেগম, আফজাল শিকদার ও মলয় রায়, ব্রেইল শিক্ষক সমীরঞ্জন বিশ্বাস, হিসাব রক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান, কম্পিউটার অপারেটর তাজকিয়া জান্নাত সুইটি। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার মৌমী, রাজিয়া জান্নাত তালুকদার, রেশমা আক্তার রিয়া, খাদিজাতুল কুবরা শিফা, অহনা বেগম, আফসানা আক্তার মুন্নি, জুই রানী দাস, তোফায়েল আহমদ শুয়েব, ফাইজান আহমদ হাফিজ, জারা খান, মারিয়াম জান্নাত আরিফ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস আরও বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণে ও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও সৌভাগ্যের। আমরা বর্তমানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন অংশীজনের সাথে যৌথভাবে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছি। গ্রিন ডিসএবল্ড ফাউন্ডেশনের মতো মানবিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা গর্বিত। আগামীতেও আমাদের সাধ্যানুযায়ী এই ফাউন্ডেশন ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সিলেটের ভূয়সী প্রশংসা করে সহকারী হাইকমিশনার বলেন, সিলেটের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির অনেক বিষয়ই রয়েছে যা নিয়ে গর্ব করা যায়। গ্রীণ ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন’ও সিলেটের তেমনি একটি অনন্য রত্ন। তারা যেভাবে প্রতিকূলতার মাঝেও প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়। সমাজের প্রতিটি সচেতন মানুষের উচিত এই মানবিক উদ্যোগের পাশে এসে দাঁড়ানো। অনুষ্ঠানে জিডিএফ’র পক্ষ থেকে অতিথিবৃন্দকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।