
নিউজ মিরর ডেস্ক
সিলেটে এক মাকে মারধরের অভিযোগ তুলে পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে সন্তান। শিউলি আক্তার (৪৫)। প্রায় ২২ বছর পূর্বে তার সাবেক স্বামী মো. জয়নাল মিয়ার সাথে ডিভোর্স হয়। শিউলির ঘরে স্বামী জয়নাল মিয়ার ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে জন্ম নেয়। ডিভোর্সের পর সেই সন্তানরা বড় হয় শিউলির কাছে। শিউলি তার সন্তানদের বড় করে ৩ মেয়েকে প্রবাসে ও ছেলেকে দেশে বিয়ে করান। দীর্ঘদিন বাইরে থাকার পর ২০১৯ সালে আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগীতায় জয়নাল মিয়া তার সন্তানদের বাসার ছাদে ঘর বানিয়ে থাকার শর্তে জায়গা দেন। ছাদের সেই জায়গায় শিউলি তার প্রবাসের মেয়েদের সহযোগীতায় সুন্দর একটি ঘর বানিয়ে দেন। সেই ঘরই এখন কাল হয়ে দাড়িয়েছে সন্তানদের! এই ঘরটি এখন দখল করতে সন্তানদের তাড়িয়ে দিতে উঠেপরে লেগেছেন পিতা জয়নাল ও তার ২য় স্ত্রী সেলিনা বেগম (৩৮)! শিউলি আক্তার মাঝে মাঝে এই বাসায় তার সন্তানদের দেখতে যান বিষয়টি সহ্য হয়না জয়নাল ও তার ২য় স্ত্রী সেলিনার। তাই অযথা তাদের সাথে ঝগড়া বাধেন, খারাপ আচরণ করেন এবং হুমকি দেন তাদের বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়ার! গতমাসে শিউলি তার সন্তানদের দেখতে যান সেই বাসায়। বাসার গেইটের ভিতরে ঢুকার সাথে সাথেই তার উপর শুরু হয় অতর্কিত হামলা, স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এছাড়াও জয়নাল ও তার ২য় স্ত্রী সেলিনা সন্তানদের ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দিলেও অদৃশ্য কারনে কোনো সুরাহা করেন নি থানা কর্তৃপক্ষ। মায়ের দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে পিতার বিচার চেয়ে শেষমেষ এসএমপি’র পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ করে সন্তান।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ সুরমার বারখলা এলাকার ব্লক-এ এর ২৪ নং বাসায়। গত ৬ অক্টোবর সোমবার এসএমপি’র পুলিশ কমিশনারের কাছে পিতা মো. জয়নাল মিয়ার বিচার চেয়ে একটি অভিযোগ করেছে তারই সন্তান মো. রায়হান (৩২)।
মো. রায়হানের অভিযোগ করে বলেন, আমার পিতা মো. জয়নাল মিয়া (৫৫) দক্ষিণ সুরমার বারখলা এলাকার ব্লক-এ এর ২৪ নং বাসার বাসিন্দা। আমার মা মোছা. শিউলি আক্তার (৪৫) এর সাথে প্রায় ২২ বছর পূর্বে আমার পিতা মো. জয়নাল মিয়ার সাথে ডিভোর্স হয়। মা-বাবার ডিভোর্সের কারনে নাবালক থাকায় আমরা মায়ের সাথে বসবাস করি। মা অসুস্থ। তিনি আমাদের বড় করে ৩ বোনকে প্রবাসে ও আমাকে বিয়ে করিয়ে দেন। পরে ২০১৯ সালে আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগীতায় আমাদের বাবার বাসার উপর তলার ছাদে থাকতে দেন। বোনদের প্রবাসের টাকায় সেই ছাদে আমরা একটি ডুপ্লেক্স ঘর তৈরি পরিবার স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে একই বাসায় বসবাস করি। বাসার নিচ তলায় আমার বাবা থাকেন ও ২য় তলায় আমরা। আমার মা মাঝে মাঝে আমাদের এখানে দেখতে আসেন। বিষয়টি সহ্য হয়না আমার বাবার। তাই অযথা আমাদের সাথে ঝগড়া বাধেন, আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং হুমকি দেন আমাদের ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়ার। গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় আমার মা মোছা. শিউলি আক্তার ও আমার বোন রিপা বেগমকে নিয়ে আমাকে দেখতে আমার বাসায় আসলে আমার পিতা মো. জয়নাল মিয়া (৫৫) এবং ওনার ২য় স্ত্রী সেলিনা বেগম (৩৮) আমার মাকে বাসার গেইট লাগিয়ে গালিগালাজ ও বেধরক মারধর করেন। আমার বাবা আমার মাকে কিল, ঘুশি এবং মায়ের চুল ধরে স্বজোরে দেয়ালে ধাক্কা দিয়ে সারা শরীরে গুরুতর লিলা ফুলা জখম করেন। তারা আমার মাকে হত্যার করার চেষ্টা করেন। আমার মা ও বোনের শোর চিৎকারে আমি ও আশপাশের লোকজন সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করি। এবং তাদের ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাই। এর আগে আমরা ৯৯৯ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। কিন্তু তারা বাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তিতে আমরা দক্ষিন সুরমা থানায় একটি অভিযোগ দেই। কিন্তু বিষয়টি থানা পুলিশ অদৃশ্য কারনে আমলে নেয়নি। আমার মা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পেটে লাথির আঘাথের কারনে আমার মায়ে পেটে অপারেশন হয়েছে। আমার পিতা মো. জয়নাল মিয়া (৫৫) এবং ওনার ২য় স্ত্রী সেলিনা বেগম (৩৮) এলাকায় প্রভাবশালী। তিনি আমাদের এখন হুমকি দিচ্ছেন। তিনি আমাদের ঘরের বিদ্যুৎ লাইনের মিটারও কেটে নিয়েছেন। যেকোনো সময় আমাদের উপরও তারা হামলা করতে পারেন।
রায়হান আরো বলেন, প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকায় কোনো বিচার পাইনি। বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিকবার থানায় গিয়েও কোনো সহযোগীতা পাইনি। বর্তমান পুলিশ কমিশনার মহোদয় একজন ন্যায়বান লোক। আমরা এই অন্যায়ের বিচার প্রাথী হয়েছি। আমরা প্রশাসনের সহযোগীতা চাচ্ছি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. রায়হানের পিতা মো. জয়নাল মিয়া বলেন, বিষয়টি আমাদের পারিবারিক। আমি এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিবো না।
বিষয়টি জানতে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানকে কল করলে তিনি তা রিসিভ করেননি।