
নিউজ মিরর ডেস্ক
সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছাবেদ আলী ও এসআই শংকর চন্দ্র দেবের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির সদস্য ও যুবদল নেতা মো. সুমন আহমদ সুজা গত ০৪/১১/২০২৬ খ্রি. তারিখে পুলিশ সুপার মহোদয় বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ বা স্মারকলিপি দাখিল করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ওসি মো. ছাবেদ আলী গোলাপগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকেই থানাটিকে ঘুষ বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। টাকার বিনিময়ে নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষকে ধরে এনে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন বিরোধীয় মামলায় আসামি করে আদালতে চালান করা হচ্ছে। এছাড়া জামায়াতপন্থী কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের সাথে গোপন আঁতাত করে তাদের ইশারায় সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ কৃষক লীগের গোলাপগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মালেক (মালেক)-এর বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ থানায় অন্তত ৫টি বৈষম্যবিরোধী মামলা ও ছাত্র আন্দোলনের একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও ওসি তাকে গ্রেপ্তার করছেন না। উল্টো ওই নেতার মাধ্যমে সুরমা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে বারবার বলা সত্ত্বেও ওসি তাকে রক্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত কিছুদিন আগে বিদেশ থেকে আসা গোলাপগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম, ফাতা-ইব্রাহিম মিয়া ও শংকর চন্দ্র দেব মিলে এক দেহ ব্যবসায়ীর সাথে যোগসাজশে জাহিদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মিথ্যা মামলা (গোলাপগঞ্জ থানার মামলা নং-১৭, তারিখ: ১৫/১০/২০২৬) দায়ের করান। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শংকর চন্দ্র দেব আসামির নিকট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দেওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠান।
অভিযোগকারী জানান, কুশিয়ারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শংকর চন্দ্র দেবের মদদে গোলাপগঞ্জ থানায় পুলিশি হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্য চরম আকার ধারণ করেছে। এমতাবস্থায় গোলাপগঞ্জ থানার ওসি মো. ছাবেদ আলী ও এসআই শংকর চন্দ্র দেবের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। অন্যথায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হবে বলে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।