সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
সাইটের সংস্কার কাজ চলছে, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পাশে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
গোয়াইনঘাটে বসতবাড়িতে ঢুকে হামলা ও লুটপাট, গুমের হুমকি

গোয়াইনঘাটে বসতবাড়িতে ঢুকে হামলা ও লুটপাট, গুমের হুমকি

স্টাফ রিপোর্ট
সিলেটের গোয়াইনঘাটে দিনে-দুপুরে বসতবাড়িতে ঢুকে এক গৃহবধূকে বর্বরোচিত কায়দায় মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালংকারসহ নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৬নং ফতেপুর ইউনিয়নের লামা ফতেপুর গ্রামে ১৩ মার্চ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনায় মন্তাজ আলীর স্ত্রী ভুক্তভোগী গৃহবধূ শামীমা বেগম (৪২) বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের তিন ছেলে— মিনহাজ উদ্দিন (২২), নোমান উদ্দিন (২৮) ও মিজান আহমদ (২৬) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত মিনহাজ উদ্দিন বাদীর ছেলের বন্ধু হওয়ার সুবাদে আগে থেকেই ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তার উশৃঙ্খল আচরণের কারণে তাকে বাড়িতে আসতে একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তিনি তা কর্ণপাত করেননি। গত ১৩ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে মিনহাজ ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার থেকে এক ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৯ হাজার ৭৫০ টাকা লুট করে পালানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় গৃহবধূ শামীমা বেগম তাকে বাধা দিলে শুরু হয় পৈশাচিক তাণ্ডব। মিনহাজ ও তার সহযোগীরা শামীমা বেগমকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে মিনহাজ তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তলপেটে সজোরে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নোমান উদ্দিন তার গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান। এরপর মিনহাজ চুলের মুঠি ধরে শ্লীলতাহানি করেন। গৃহবধূর চিৎকারে তার ছেলে মাহবুব আলম ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে মিজান আহমদসহ অন্যান্যরা মাহবুবের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে বেদম প্রহার করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা লুটের মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে এই পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে বলছে যে, ওই বাড়িতে বসবাস করতে হলে তাদের কথামতো চলতে হবে, অন্যথায় মা-ছেলে উভয়কেই গুম করে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।

ভুক্তভোগী শামীমা বেগম বলেন, সন্ত্রাসীদের হামলায় আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমার ও আমার ছেলের জীবন এখন ঝুঁকির মুখে। আমি এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। চিকিৎসা গ্রহণ এবং আত্মীয়স্বজনদের সাথে পরামর্শ করার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার এসআই মো. ফারুকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার দিয়ে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন, ধন্যবাদ।




© All rights reserved © 2012 Newsmirror24.news
ThemesBazar-Jowfhowo