সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

নোটিশ
সাইটের সংস্কার কাজ চলছে, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পাশে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
শিরোনাম
সিলেট মহানগর যুবদলের কমিটি ঘোষণা : সভাপতি সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক দিনার সিলেট জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা : সভাপতি মকসুদ, সাধারণ সম্পাদক টিপু শ্রুতি লেখকের দায়িত্ব পালন করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পল্লব : অচিনপুরী মেজরটিলায় পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস ইসলামপুর’ ক্যাম্পেইনও ডিজিটাল সেলফ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারে ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন ও সেফটি প্ল্যান সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে মতবিনিময় সিলেটে যুক্তরাজ্যগামী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এএইচ জেড এসোসিয়েট এর প্রি-ডিপারচার প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কালারফুল সিলেটের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘সিলেট হেরিটেজ আর্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত সিলেটের জিডিএফ’র প্রতিষ্ঠাতা রজব আলী খানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সাবেক সভাপতি রজব আলী খানের মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অবিস্মরণীয় : এম এ মালিক
লিবিয়ায় গণকবর থেকে ৫০ মৃতদেহ উদ্ধার

লিবিয়ায় গণকবর থেকে ৫০ মৃতদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমি এলাকায় দুটি গণকবর থেকে প্রায় ৫০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। রোববার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টায় থাকা অভিবাসীদের জন্য এটি আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা।

এর আগে শুক্রবার কুফরা শহরের একটি খামারে প্রথম গণকবরটির সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে ১৯টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে শহরের নিরাপত্তা অধিদপ্তর। তারা মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে।

কর্তৃপক্ষের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, পুলিশ ও মেডিকেল টিম মরুভূমির বালির নিচ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করছে, যেগুলো কম্বলে মোড়ানো ছিল।

কুফরাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আল-আব্রিন চ্যারিটি জানিয়েছে, বেশ কয়েকজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, তারপর তাদের কবর দেওয়া হয়।

একই দিনে কুফরায় মানবপাচার চক্রের একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে অন্তত ৩০টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। কুফরার নিরাপত্তা চেম্বারের প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাদিল জানিয়েছেন, জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই গণকবরে প্রায় ৭০ জনকে দাফন করা হয়েছে।

পরে কর্তৃপক্ষ মানবপাচার কেন্দ্র থেকে ৭৬ জন অভিবাসীকে মুক্ত করে এবং তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের মধ্যে একজন লিবিয়ান ও দুইজন বিদেশি নাগরিক। সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অভিবাসীদের আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত চলার সময় তাদের আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রসিকিউশন।

লিবিয়ায় অভিবাসীদের গণকবরের সন্ধান নতুন কিছু নয়। গত বছর দেশটির শুয়াইরিফ অঞ্চলে অন্তত ৬৫ অভিবাসীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে যাওয়ার প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত লিবিয়া। ২০১১ সালে স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। দেশটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি সরকার কার্যত আলাদা শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করছে, যাদের প্রত্যেকটির পেছনে বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী ও বিদেশি শক্তির সমর্থন রয়েছে।

দেশটির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারীরা লিবিয়ার প্রতিবেশী ছয়টি দেশ—চাদ, নাইজার, সুদান, মিসর, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ার সীমান্ত দিয়ে অভিবাসীদের পাচার করছে।

পাশাপাশি, ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য অভিবাসীদের ছোট রাবারের নৌকা ও অনিরাপদ জলযানে তুলছে তারা, যা ভয়ংকরভাবে বিপজ্জনক ভূমধ্যসাগরীয় যাত্রার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বছরের পর বছর ধরে লিবিয়ায় অভিবাসীদের ওপর চলমান নির্যাতন, বাধ্যতামূলক শ্রম, মারধর, ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনা নথিভুক্ত করে আসছে। বেশিরভাগ সময় মানবপাচারকারীরা অভিবাসীদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য নির্মম নির্যাতন চালায়।

এছাড়া, যেসব অভিবাসী সমুদ্রে আটকে পড়ে এবং লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়, তাদের সরকারি আটককেন্দ্রগুলোতে বন্দি করে রাখা হয়, যেখানে তারা নির্যাতন, ধর্ষণ ও মুক্তিপণ দাবির শিকার হয় বলে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

শেয়ার দিয়ে অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন, ধন্যবাদ।




© All rights reserved © 2012 Newsmirror24.news
ThemesBazar-Jowfhowo